নেপালে মানবিক বিপর্যয়
হিমালয়ের হিমবাহ ধসে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে নিহত বেড়ে ৫৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ এই দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৪৭৩ জন। শুক্রবার বিকেলে নেপালের পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। অবশ্য এর কিছুক্ষণ আগে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) ৫৭৮ জন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল।
এনডিআরআরএমএ জানিয়েছে, এখনো ৯৭৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি। এখন পর্যন্ত ১২১ জন বিদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের পর্যটন বোর্ড। নেপাল পুলিশের ২৮ সদস্যেরও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ বলছে, নিখোঁজ তালিকায় থাকা কিছু মানুষ হয়তো নিরাপদে অন্যত্র পৌঁছেছেন; তাদের বিষয়ে তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এই হিসাবের মধ্যে রাসুয়া জেলার নিহতদের পাশাপাশি ভাটির বিভিন্ন জেলা থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহও রয়েছে। তবে এটি চূড়ান্ত সংখ্যা নয়। উদ্ধার ও তলাশি অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার অভিযানে তাঁদের ৪ হাজার ৪৭৩ জন সদস্য কাজ করে যাচ্ছেন। এ ছাড়া দুর্যোগকবলিত নদীতীরবর্তী এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাতে অতিরিক্ত ১ হাজার ২০০ সেনা মোতায়েনের কথা জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর।
ভোতেকোশি নদী ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থার অংশ হওয়ায় বন্যার প্রবল স্রোত মানুষ ও ধ্বংসাবশেষকে অনেক দূর ভাটিতে নিয়ে গেছে। এ কারণে রাসুয়া ছাড়াও নুয়াকোট, ধাদিং, গোর্খা, তানাহুন, চিতওয়ান ও নাওয়ালপরাসি এলাকায় মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যার স্রোতে ভেসে আসা মরদেহগুলো বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ায় সেগুলো সংরক্ষণ ও শনাক্ত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বন্যার ভয়াবহতার আরেকটি দিক সামনে এসেছে মরদেহ সংরক্ষণে জায়গার সংকটের মধ্য দিয়ে। চিতওয়ান জেলায় শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ১৮৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অথচ জেলার হাসপাতালগুলোর মর্গে মোট ধারণ ক্ষমতা মাত্র ৩০ থেকে ৫০টি মরদেহের। এ অবস্থায় ভরতপুরের ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট’-এর একটি অব্যবহৃত ভবনকে অস্থায়ী মরদেহ সংরক্ষণ কেন্দ্রে রূপান্তর করা হচ্ছে। সেখানে প্রায় ২৫০টি মরদেহ রাখার ব্যবস্থা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভরতপুর মেট্রোপলিটন সিটি ভবনটির সংস্কার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো সরবরাহ করছে ড্রাই আইস।
নওয়ালপরাসি পূর্ব জেলাতেও হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। সেখান থেকে মরদেহ পোখারা, বুটওয়াল, ভৈরহওয়া ও পালপায় পাঠানো হচ্ছে। কাওয়াসোটির একটি কমিউনিটি ফরেস্ট হলকেও অস্থায়ী মর্গে রূপ দেওয়া হয়েছে।
ভাটির বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠেছে পোখারা। তানাহুন, গোর্খা, নওয়ালপরাসি পূর্ব ও ধাদিং থেকে ৯৩টি মরদেহ পোখারায় নেওয়া হয়েছে। কাস্কি জেলার হাসপাতালগুলোর মর্গে মোট ৮৮টি মরদেহ রাখার সক্ষমতা থাকলেও সেই ধারণক্ষমতা ইতিমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে মরদেহগুলো ২ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সাধারণত এই তাপমাত্রায় মরদেহ প্রায় ১০ দিন থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত রাখা সম্ভব। এর বেশি সময় সংরক্ষণের জন্য হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রা প্রয়োজন হলেও পোখারায় বিপুলসংখ্যক মরদেহ রাখার মতো এমন সুবিধা নেই।
মরদেহ শনাক্ত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ প্রতিটি মরদেহের ছবি তুলছে, আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করছে এবং ময়নাতদন্ত করছে। প্রয়োজন হলে ডিএনএ নমুনাও নেওয়া হচ্ছে। যেসব মরদেহের মুখমণ্ডল দেখে শনাক্ত করা সম্ভব, সেগুলোর ছবি পরিবারের সদস্যদের দেখানো হচ্ছে। আর ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য কাঠমান্ডুর নেপাল একাডেমি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং নেপাল পুলিশ সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শনাক্তহীন বা দাবিদারহীন মরদেহ অনির্দিষ্টকাল সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। ‘শনাক্তহীন ও দাবিদারহীন মৃতদেহ ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা’ অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপদ সমাধিস্থল নির্ধারণ করা হচ্ছে। প্রতিটি মরদেহকে একটি ট্যাগ নম্বর দেওয়া হবে এবং দাফন বা সমাধিস্থ করার বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। ভবিষ্যতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হলে যাতে দেহাবশেষ খুঁজে বের করা যায়, সে জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নদীর ভাটির দিকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ায় নিখোঁজদের স্বজনরা চিতওয়ানসহ বিভিন্ন এলাকায় ছুটে যাচ্ছেন। অনেকে সঙ্গে নিয়ে আসছেন নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের ছবি। অস্থায়ী মরদেহ সংরক্ষণ কেন্দ্রের কাছে জড়ো হয়ে তারা প্রিয়জনের কোনো সন্ধান পাওয়ার অপেক্ষা করছেন। উদ্ধার অভিযান যত বিস্তৃত হচ্ছে, স্বজনদের মধ্যে নিখোঁজদের জীবিত থাকার আশার পাশাপাশি তাদের পরিণতি জানার আকুতিও বাড়ছে।
নেপাল-চীন সীমান্তের কাছ থেকে নেমে আসা পানির প্রবল স্রোত ও ধ্বংসাবশেষ ভাসিয়ে নেয় রাস্তা, সেতু, ভবন, যানবাহনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। পরে এই স্রোত ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করে এবং ভাটির দিকে আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বন্যার কারণে কিছু এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, ভোটেকোশিতে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটলেও পানির প্রচন্ড বেগের কারণে মরদেহগুলো দূরের জেলাতে চলে এসেছে। এখন বেশির ভাগ মরদেহ সেসব জেলা থেকেই উদ্ধার করা হচ্ছে। এর মধ্যে মরদেহের সংখ্যা বাড়তে থাকায় মর্গের জায়গাও কমে আসছে। ফলে মরদেহ রাখা ও এগুলোর পরিচয় শনাক্তের জন্য হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, রাসুয়া এবং নুয়াকোট জেলার মানুষের মরদেহ পাওয়া গেছে নদীর ভাটির অঞ্চল চিতওয়ান, তানাহুন, নাওয়ালপারাসি এবং অন্যান্য এলাকায়।
অপর দিকে নুয়াকোট, ধাদিং এবং নাওয়ালপারাসির মর্গগুলোর জায়গা ফুরিয়ে এসেছে। কিছু মরদেহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর মর্গে পাঠানো হয়েছে। চিতওয়ানের হাসপাতালের মর্গ ভরে উঠায় অস্থায়ী মর্গ তৈরি করা হয়েছে। অপর দিকে অন্যান্য জেলা থেকে মরদেহ আসায় পোখরার হাসপাতালের মর্গও ভরে উঠছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
চিতাওয়ান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের মর্গে সাধারণত ৩০ থেকে ৫০টি মরদেহ রাখা যায়। এখন অস্থায়ী যে মর্গ তৈরি করা হচ্ছে সেখানে প্রায় ২৫০টি মরদেহ রাখা যাবে।
চিতাওয়ানে যেহেতু সবচেয়ে বেশি মরদেহ আছে তাই বন্যাকবলিত জেলাগুলোর মানুষ এখানে আসছেন তাদের প্রিয়জনের খোঁজে।
রাসুয়া জেলার বন্যাকবলিত এলাকা থেকে ১১৭ জন বিদেশি পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড।
উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের মধ্যে রয়েছেন ৮৫ জন ভারতীয়, ১৬ জন চীনা, ৯ জন দক্ষিণ কোরীয়, ২ জন মার্কিন, ২ জন ইতালীয়, আরও ৩ জনের জাতীয়তা যাচাই করা হচ্ছে। বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলো থেকে মানুষকে সরিয়ে নিতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী স্থলপথে নদীর তীর ও জনবসতিতে তলাশি চালাচ্ছে।
অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে ৪,৪০০-এর বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নেপালি সেনাবাহিনী ও আর্মড পুলিশ ফোর্সও অভিযানে অংশ নিচ্ছে। নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নুয়াকোট, রাসুয়া ও ধাদিং এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী ১,৪৭৩ জনকে উদ্ধার অথবা প্রাথমিক সহায়তা দিয়েছে। তবে বন্যায় রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় স্থলপথে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে হেলিকপ্টারের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।
মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও সব মন্ত্রী তাঁদের এক মাসের বেতন ও সম্মানী প্রধানমন্ত্রীর প্রাকৃতিক দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলে দেবেন। অর্থ মন্ত্রণালয়কে নেপাল-চীন সীমান্ত, ভোতেকোশি নদী এবং ভাটির ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মানুষ ও ব্যবসার জন্য ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্যাকেজ প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতও অতিরিক্ত মানবিক সহায়তা পাঠাচ্ছে। ১২ টন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে তৃতীয় একটি সামরিক বিমান নেপালে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর আগে দুই চালানে ৪৭ টনের বেশি ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রও সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। ওয়াশিংটন ৫ লাখ ডলার সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় একজন উপদেষ্টা পাঠানোর কথা জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ৯০ জন মার্কিন নাগরিকের বিষয়ে খোঁজ রাখছে; তাদের মধ্যে তিনজনকে ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে।
বন্যার তৃতীয় দিনে উদ্ধার অভিযান এখন আর শুধু জীবিতদের উদ্ধারে সীমাবদ্ধ নেই। বিপুল সংখ্যক মরদেহ উদ্ধার, সেগুলোর সংরক্ষণ, পরিচয় শনাক্তকরণ এবং স্বজনদের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ও সেতু পুনরায় সচল করা, বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে পৌঁছানো এবং ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর পানির স্তর পর্যবেক্ষণ করাও জরুরি হয়ে পড়েছে।
চীন সীমান্তে সৃষ্ট ব্যারিয়ার লেক নিয়ে পরস্পর বিরোধী তথ্য পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। উজান থেকে নতুন করে কতটা পানি ভাটির দিকে আসতে পারে, সে বিষয়ে নেপাল এখনো নিশ্চিত নয়। বন্যার তিন দিন পরও পুরো বিপর্যয়ের চিত্র স্পষ্ট হয়নি। নিহতের সংখ্যা ৫৩৮ ছাড়িয়েছে, ৯৭৭ জন এখনো নিখোঁজ এবং ভোতেকোশি থেকে ত্রিশূলী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মূল এলাকায় উদ্ধারকারীরা : বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, হিমবাহ ধসে বিলীন হয়ে যাওয়া মূল এলাকায় পৌঁছেছেন চীনের উদ্ধারকারীরা। নিখোঁজ শত শত মানুষকে খুঁজে বের করতে আজ সেখানে অত্যন্ত বিপজ্জনক ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন তাঁরা।
চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, তিব্বতের সীমান্ত বাণিজ্য কেন্দ্র গিরং কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে তলিয়ে যাওয়ার দুই দিন পর আজ বিকেলে ২১ সদস্যের উদ্ধারকারী একটি দল প্রথমবারের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
বুধবারের আকস্মিক বন্যা-ভূমিধসে তিব্বতে নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৫-এ পৌঁছেছে। সেখানে এখনো ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উদ্ধার অভিযান নিয়ে শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন।
কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিনহুয়া আরও জানিয়েছে, পার্শ্ববর্তী এলাকায় হিমবাহ, বরফাবৃত হ্রদ এবং ভূমিধসজনিত দুর্যোগের অনেক সুপ্ত ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে। ফলে উদ্ধারকাজ চরম প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছে।
বুধবার কাদাধসের পর পানি আটকে উজানে বিশাল এক হ্রদের সৃষ্টি হয়। হ্রদটি ধসে গিয়ে আরও ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তবে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম শুক্রবার জানিয়েছে, ওই হ্রদ থেকে তৈরি হওয়া ঝুঁকি ধীরে ধীরে কমে আসছে এবং উদ্ধার অভিযান শৃঙ্খলার সঙ্গে এগিয়ে চলছে।
এর আগে হ্রদের পানি উপচে পড়তে শুরু করায় আবারও বন্যার ঝুঁকিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সাময়িকভাবে উদ্ধার অভিযান স্থগিত রেখেছিল চীন।
বিদেশি উদ্ধার সহায়তা প্রত্যাখ্যান নেপালের : চারদিক থেকে সাহায্যের প্রস্তাব এলেও নেপাল জানিয়েছে, তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে অন্য কোনো দেশের সাহায্যের প্রয়োজন নেই।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী শুক্রবার বলেন, ‘সাহায্যের প্রস্তাব আসাটাই স্বাভাবিক, তবে আমাদের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোই অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। আপাতত আমাদের এই ধরনের সাহায্যের প্রয়োজন নেই।’
সিউলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দক্ষিণ কোরিয়ার একটি র্যাপিড রেসপন্স টিম ইতিমধ্যেই কাঠমান্ডুতে অবস্থান করছে। কিন্তু নেপাল সরকার এখনো বিদেশি উদ্ধারকারীদের সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা না করায়, তাদের মোতায়েন করা হয়নি।
‘কাঠমান্ডু পোস্ট’ জানিয়েছে, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলগুলোকে অভিযানে সহায়তা করার অনুমতি দিতে সরকারকে অনুরোধ করেছিল।
চীন সীমান্তের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা-গিরোং সীমান্ত ক্রসিংয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চীনা উদ্ধারকারীরা পৌঁছাতে পারেননি বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। কারণ, কর্মীরা ওই এলাকার প্রধান সংযোগ সড়ক থেকে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করছিলেন।
নেপালকে সহায়তার আশ্বাস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের : ট্রাম্প বলেন, ‘কেউ কখনো এমন দৃশ্য দেখেনি, যেখানে অত্যন্ত শক্তিশালী, মজবুত এবং ভালোভাবে তৈরি ভবনগুলো টুথপিকের (দাঁত খোঁচানোর কাঠি) মতো মুছে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এটি একটি ভয়াবহ ঘটনা। আমরা সাহায্য পাঠাচ্ছি এবং আমরা সেখানকার নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা তাদের জানিয়েছি, তারা যা চাইবে, তাই পাবে।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট।